সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
গবিন্দগঞ্জের উজিরেরপাড়া বাইগুনীতে জমি নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ- ঘরের বেড়া ভাংচুর গাবতলীতে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত সুখানপুকুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত সোনাতলায় পিঁয়াজ চাষ বৃদ্ধি ও পাটবিজ উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষক প্রশিক্ষণ মোশাররফ হোসেন বগুড়ার সোনাতলায় গাজাগুরু তহসেন আলি সহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক নাট্যদিশারি আফসার আহমদ এর স্মরণসভা বগুড়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের কমিটি বাতিলের দাবীতে কাহালুতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত গাবতলীর জামিরবাড়িয়া পাকা সড়কে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত গাবতলীর ১১জন বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারগণকে সংবর্ধণা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে বগুড়ায় সুজনের মানববন্ধন

গাবতলীতে যুবককে ছুরিকাঘাত মামলার ২আসামী হাসপাতাল থেকে উধাও

গাবতলীতে যুবককে ছুরিকাঘাত মামলার ২আসামী হাসপাতাল থেকে উধাও

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ার গাবতলীতে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারী ছুরিকাঘাত ও লোহার রড দিয়ে মারপিট এবং দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করার মামলার ২জন আসামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখোঁজ হলেও এখনো অধরা রয়েছে। হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ বা পালিয়ে যাওয়া আসামীরা হলো বগুড়া শহরের রহমান নগর বর্তমান গাবতলী সদর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রপেরী গ্রামের মোঃ বাবু মিয়ার ছেলে মোঃ শাকিল মিয়া (২০) ও ক্ষিদ্রপেরী পূর্বপাড়ার আমিন উদ্দিনের ছেলে মোঃ মানিক মিয়া (৩৫)। থানায় দায়েরকৃত মামলার বিবারণে প্রকাশ, গাবতলী সদর ইউনিয়নের ক্ষিদ্রপেরী গ্রামের আব্দুল মজিদ প্রামানিকের ছেলে সুমন মিয়ার স্থানীয় দাড়াইল বাজারে এসআর কম্পিউটার টেলিকম মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান রয়েছে। মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে একই এলাকার শাকিল ও মানিক এর সাথে সুমনের বিরোধ চলে আসছিল। এর একপর্যায়ে গত ১৩ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৯টায় চাকু ও লোহার রড নিয়ে শাকিল ও মানিক ওই দোকানে অনাধিকার প্রবেশ করে সুমনকে অকর্থ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকে। সুমন তাদেরকে গালি গালাজ করতে নিষেধ করলে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে মামলার আসামীরা সুমনকে এলোপাতারী ভাবে ছুরিকাঘাত ও লোহার রড দিয়ে বেদম মারপিট করে। পরে স্থানীয় লোকজন সুমনকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিএনজি যোগে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। এ ছাড়া তার এসআর কম্পিউটার টেলিকম মোবাইল সার্ভিসিং দোকান ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করেছে বলে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ রয়েছে। অপর দিকে সন্ত্রাসী হামলার কারনে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিল ও মানিককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনকে বগুড়া আর শাকিল ও মানিককে গাবতলী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে ওই রাতেই পুলিশ শাকিল ও মানিককে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। হাসপাতালের রেজিষ্টারে ১৩ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৪ফেব্রুয়ারী রাত ১২টা ৩০মিনিটে মানিক মিয়া ও রাত ১২টা ৩৫মিনিটে শাকিলকে ভর্তি হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। এ বিষয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৩৫মিনিটে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে ডিউটিরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রুপালী মজুমদার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, পুলিশ পাহারায় শাকিল ও মানিককে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হলেও ১৫ফেব্রুয়ারী সকালে ওই ২জন রোগী পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, শাকিল ও মানিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে আমাদের রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ আছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স রুপালী মজুমদার বলেন, পুলিশ পাহারায় শাকিল ও মানিক পালিয়ে যাওয়ায় রেজিষ্টারে ওই রোগীদের ছুটি হিসেবে দেখানো যায়নি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫৫মিনিটে মোবাইল ফোনে হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ইনচার্জ) নাজমা আকতার এর সাথে কথা বললে তিনিও জানান, পুলিশ পাহারায় শাকিল ও মানিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ফেব্রুয়ারী সকালে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। ফিদেল নামের হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয় জানিয়েছেন, সার্জারী ওয়ার্ডে পুলিশ পাহারায় শাকিল ও মানিক নামের ২জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থা পালিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, তাদেরকে ২/৩জন পুলিশ পাহারা দিতে আমি দেখেছি। এ ব্যাপারে থানার ওসি (তদন্ত) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, দাড়াইল বাজারে মারপিট বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ আহত সুমনকে বগুড়া এবং আহত শাকিল ও মানিককে প্রথমে গাবতলী পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের ফাঁড়ি পুলিশকে শাকিল ও মানিককে দেখে রাখার জন্য বলা হয়েছিল। পরের দিন আহত সুমনের ভাই স্বপন উদ্দিন প্রামানিক বাদী হয়ে শাকিল ও মানিক এর বিরুদ্ধে মামলা দিলে গাবতলী থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে হাসপাতালে গেলে আসামী শাকিল ও মানিককে পাওয়া যায়নি। ওসি আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। মামলার বাদী স্বপন উদ্দিন প্রামানিক বলেন, গত ১৩ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনার পর পরই আসামীদের গ্রেফতার করে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন ১৪ফেব্রুয়ারী বেলা ২টা ১৫মিনিটে থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়। আর পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ফেব্রুয়ারী সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টায় আসামীরা পালিয়ে যায়। যে কারনে মামলার বাদী প্রশ্ন তুলেছেন ঘটনা ঘটলো ১৩ফেব্রুয়ারী, মামলা হলো ১৪ফেব্রুয়ারী আর আসামীরা পালিয়ে গেল ১৫ফেব্রুয়ারী। তাহলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে গেল কোন সময়।

শেয়ারকরুন: