রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়ন আ’লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন গাবতলীতে ১২বছর যাবৎ ঈদগা মাঠে’র হিসাব না দেয়ায় প্রতিবাদ সভা নিজের স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায পরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রীকে খুন বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে স্মার্টফোন কিনে না দেয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা মাদক থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই — রাজিবুল করিম রাফি কাহালুতে বিষ প্রয়োগ প্রায় ২৪ লাখ টাকার মাছ নিধন থানায় লিখিত অভিযোগ গাবতলীতে আজম খানের রুহের ও করোনায় আক্রান্ত রবিন খানের পরিবারের সুস্থ্যতা কামনা করে দোয়া মাহফিল মানুষ খুন করে কখনো বেহেশত পাওয়া না ঃ এ্যাড.লীটন আদমদীঘিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের শাশুরী গুরুত্বর অসুস্থ ঢাকায় ভর্তি

ডোমারে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর রঙ্গীন ঘরে সুখের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ৩৩৮ পরিবার

ডোমারে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর রঙ্গীন ঘরে সুখের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ৩৩৮ পরিবার

ডোমার প্রতিনিধিঃ স্বপ্ন ছিল ভাঙা বাড়ির বদলে একদিন গড়বেন পাকা বাড়ী। সে বাড়ীতে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখ-স্বাছন্দে বসবাস করবেন মাহমুদা আক্তার (২৮)। এজন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রমে স্বামীকে নিয়ে লড়াই করেছেন বিয়ের একটি যুগ। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে তার সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। মুজিব বর্ষে সেই মাহমুদার সেই পাকা বাড়ীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন তার ঠাই হয়েছে রঙিন পাকা ঘরে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী গ্রামে মাহমুদার আক্তারের বাড়ী। ভিটেমাটিহীন স্বামী শেখ ফরিদের (৩২) সামান্য দর্জির কাজের আয়ে চলতো তাদের টানাপোড়নের সংসার। দুই সন্তানসহ মাহমুদার সংসার শ্বশুর ও শাশুরীকে নিয়ে।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আনন্দিত মাহমুদা। ঘরের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর না হলেও কাজ নির্মানকাজ শেষ হওয়ায় বসবাস শুরু করেছেন চকচকে ওই রঙিন ঘরে। স্বপ্ন পূরণে নিজের ব্যর্থতার হতাশা মুছে ফেলে এখন তার চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। ব্যস্ত সময় পার করছেন সেই ঘর সাজানোর কাজে। গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। এসময় মাহমুদা আক্তার বলেন,‘অন্যের জমিতে বসবাস আমাদের। সে ঘরের চালে অসংখ্য ফুটা। রাতে বৃষ্টি হলে ঘুমাতে পারতাম না। সংসারের ঘানি টানতে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছি। এ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম ভিটেমাটি যোগার করে একটি পাকা ঘর নির্মানের। কিন্তু বিয়ের ১২টি বছর পার হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় আমার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। মানুষের কল্যাণে যতদিন জীবিত থাকবেন ততদিন ক্ষতায় থাকুক।’
শুধু মাহমুদাই নয়, তার ন্যায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন ওই উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের মধ্য পাঙ্গা গ্রামের ভূমিহীন সোহেল রানা (৫০) ও মাজেদা বেগম (৪০) দম্পতি। সোহেল রানা জীবিকা নির্বাহ করেন রিকসা চালানোর আয়ে। দুই ছেলে এক মেয়ে সন্তান নিয়ে তাদের বসবাস ছিল অন্যের জমিতে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে অনুভুতিতে মাজেদা বেগম বলেন,‘২৩ বছর আগে ্আমার বিয়ে (বিয়া) হয়েছে। তখন থেকে বলতে পারি নাই আমার নিজের বাড়ী আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় এখন বলতে পারব আমার নিজের বাড়ী আছে।’
তাদের ন্যায় ঘর পেয়েছেন একই ইউনিয়নের মেলাপঙ্গা গ্রামের ভূমিহীন আব্দুল মতিন (৩০), হাবিবা বেগম (৩২). বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ী চেয়্যারম্যানপাড়া গ্রামের বেগম বেওয়াসহ (৫০) উপজেলাটির ১০টি ইউনিয়নের ৩০০ পরিবার। এর মধ্যে ২০০ ঘর নির্মান শেষে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে। প্রধান মন্ত্রীর উপহারের রঙ্গীন ঘর পেয়ে এখন তারা সকলেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রঙ্গীন সুখের।
সূত্রমতে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ডোমার উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৩৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়। গত ২৩ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ৩৮টি ঘর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন উপকারভোগীদের মাঝে। একই প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ হওয়া ৩০০টি ঘরের মধ্যে ২০০টির নির্মান কাজ শেষ হয়ে চলছে রঙের কাজ। চলতি মাসের ২০ তারিখ হস্তান্তনের কথা আছে এসব ঘর। অবশিষ্ট ১০০ ঘর বিতণের কাজ চলমান আছে।
উপজেলা ত্রাণ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোহাইমেনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ের ৩৮টি ঘর নির্মাণে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা করে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩০০ ঘরের জন্য প্রতিটির বরাদ্দ পাওয়া গেছে এক লাখ ৮৯ হাজার টাকা করে। ২০০ ঘর নির্মানসহ রঙের কাজ শেষের পথে।’
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন,‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য কোন দাতা দুই শতাংশ জমি সরকারের নামে লিখে দিলে আমরা সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এভাবে উপজেলায় ৩০০ পরিবারকে ঘর প্রদান করা হচ্ছে। এ কাজে জমি দাতার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার মানুষের সহযোগিতায় কাজটি নিখুতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। সকলের সহযোগিতায় উপযুক্ত ব্যক্তিরাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন।’
তিনি জানান, উপজেলায় মোট খাস জমির পরিমান ৯০৪ একর। এর মধ্যে ৮৭৫ একর জমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেওয়া আছে। বাকী ২৯ একর জমি আট থেকে ১০ ফিট নীচু হওয়ায় ঘর নির্মান করা যাচ্ছে না

শেয়ারকরুন: