রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০১ অপরাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবীতে গাবতলীর চকবোচাই বন্দরে মশাল মিছিল গাবতলী মহিলা কলেজে নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সোনাতলায় সাবেক সেনা সদস্য আমজাদের ইন্তেকাল সোনাতলায় জাহানাবাদ আলিম মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বিএনপির চেয়ারপাস্ন খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনায় কাগইলে দোয়া গাবতলীর মহিষাবানে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত গাবতলীতে বিএনপি নেতা মতি’র রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া গাবতলীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার-১ গাবতলীতে খালেদার সুস্থ্যতা কামনায় পৌর বিএনপির দোয়া গাবতলীর উজগ্রাম ছয়ঘড়িয়াপাড়া সমাজ কল্যাণ ক্লাব উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল

ডোমারে রাজাকার পুত্রের পতাকা উত্তোলনের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন

ডোমারে রাজাকার পুত্রের পতাকা উত্তোলনের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন

ডোমার (নীলফামারী )প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে রাজাকার পুত্রের অভিযোগ তুলে গত ২৬ মার্চ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে তার (চেয়ারম্যান) অংশগ্রহনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা।

৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রতিবাদ জানান তারা।

এর আগে দিবসটিতে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান বর্জন করেন আয়োজক (সংবাদ সম্মেলন) বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এসময় লিখিত বক্তব্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরন নবী বলেন,‘২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের বাবা মো. শওকত আলী সরকার, তার দাদা মো. চাটি মামুদ, নানা মো. ছমির উদ্দিনের নাম রয়েছে। ওই তালিকার ১০২৪ নম্বরে ছমির উদ্দিন সরকার, ১০২৫ নম্বরে শওকত আলী সরকার এবং ১০৬১ নম্বরে চাটি মামুদের নাম প্রকাশিত হয়। এমন তালিকা প্রকাশের পর ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ পতাকা উত্তোলন করলে সে অনুষ্ঠান আমরা বর্জন করি। সে সময়ে আমাদের ওই অনুষ্ঠান বর্জনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সে ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে স্বাধীনতার

সুবর্ণজয়ন্তীতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান থেকে তাকে বিরত রাখার জন্য আমরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করি। এরপরও পতাকা উত্তোলনে তার (তোফায়েল) অংশগ্রহনের বিষয়টির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেদিন ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংশগ্রহনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলাম আমরা।’
তিনি বলেন,‘আমাদের ওই অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য বিএনপি শাসনামলের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক এবং ডোমার থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শমশের আলীসহ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত ওই রাজাকার পুত্রের পক্ষ অবলম্বন করে গত ৩০ মার্চ ডোমার প্রেসক্লাবে একটি মিথ্যা-বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদের বাবা, দাদা এবং নানাকে আওয়ামী লীগ পরিবারের দাবি করা হয়।

তাদের দাবির প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’
ওই সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধ গোলাম রব্বানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল করিম বজু, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ কবির দুলু, ভোগডাবুরি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার কানু, বীর মুক্তিযোদ্ধা জসিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধ নূরুল আমিন নুরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আসাদুজ্জামান চয়নসহ অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন.‘২০১৯ সালের ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমি আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হয়ে অংশ গ্রহণ করি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরন নবী আমার কাছে এবং নৌকা প্রতীকের কাছে পরাজিত হন।

যারা শেখ হাসিনার নৌকার বিরুদ্ধে ভোটে অংশ গ্রহণ করেন তারা কারা এটা সকলকে নির্ণয় করতে হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হকের বিরোধীতা করেছিলেন তিনি। আমি ৩০ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগ করি।

বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনীতি করি। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ আমি ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। আমার পরিবারের প্রত্যেকই স্বাধীনতার স্বপক্ষে ছিলেন।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরন নবী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন,‘তার (নুরন নবী) বিরুদ্ধেই কয়েক দিন আগে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলণ করেছেন। আপনারা (সাংবাদিক) নুরুন্নবী বিষয়ে প্রশ্ন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, শমশের আলীসহ অন্যান্য সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জানেন আসলে নুরন নবী কে ?’
বাবা, দাদা ও নানা কেউ স্বাধীনতা বিরোধী নন এবং তিনি ফ্রিডম পাটি করতেন না, দাবি করে বলেন,‘মো. নুরন নবী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমার সাথে পরাজিত হওয়ার পর থেকে সে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। আজ কিছু লোক ভাড়া করে তাদের আমার বাবা, দাদা ও নানাকে রাজাকার বলাচ্ছেন জোর করে। আমার পরিবারের কেউ যদি স্বাধীনতা বিরোধী থাকতো তাহলে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পর পর দুই বার (ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ) নৌকা প্রতীক দিতেন না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

শেয়ারকরুন: