শনিবার, ২৪ Jul ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
বিএনপির দুস্থ নেতাকর্মী, এতিমখানা ও নব মুসলিমকে মাংস প্রদান বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনা করে গাবতলীর উজগ্রামে দোয়া মাহফিল ১১০টি পরিবারের মুখে হাসি ফুটালেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মওদুদ আহম্মেদ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র সাবেক মহাসচিব সাজ্জাদুল কবির মারা গেছেন নেতৃবৃন্দ’র শোক গাবতলীর মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র জেলা সদস্য বাবু’র পিতার মৃত্যুতে নেতৃবৃন্দ’র শোক সোনাতলায় দিনদিন বেরেই চলেছে চোরের উপদ্রব-কৌশলে আবারো ইজিবাইক চুড়ি নন্দীগ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন এম পি মোশারফ হোসেন কালাই ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণ করলেন ইউ পি চেয়ারম্যান হান্নান বগুড়ায় পুকুরে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

তবুও অব্যাহত বিলের বোঝা ! ডোমারে এক বছর বন্ধ টেলিফোন সেবা

তবুও অব্যাহত বিলের বোঝা ! ডোমারে এক বছর বন্ধ টেলিফোন সেবা

আবু ফাত্তাহ্ কামাল (পাখি) ডোমার(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বিকল এক বছর ধরে। এমন বিকলতায় টেলিফোন বিভাগের সেবা থেকে বঞ্চিত ২১৭ গ্রাহক। এরপরও গ্রাহকের ঘারে অব্যাহত চাপছে বিলের বোঝা। সেবা চালু না হওয়া পর্যন্ত বিল বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, “প্রায় এক বছর ধরে এক্সচেঞ্জের বিকলতায় কোন কাজে আসছে না টেলিফোন। সেবা দিতে না পারলেও নূন্যতম বিলের ১৭৩ টাকা প্রতিমাসে চাপানো হচ্ছে গ্রাহকের ঘারে। ফলে দিনের পর দিন এ বোঝা ভারি হয়েই চলছে। সরকাররি ওই টেলিফোন বিভাগটি ত্রুটির দায় নিজে না নিলে সেবা ছাড়া বিলের বোঝা আমরা বহন করবে কেন ?”
ডোমার উপজেলা শহরের থানাপাড়ার গ্রাহক ফিরোজ ফারুক নিপু (৫০) বলেন,“বাসায় ৭৫৩০৭ নম্বরে একটি টেলিফোন আছে, কিন্তু এক বছর ধরে কোন সেবা পাচ্ছিনা।টিএন্ডটির হটলাইন ও স্থানীয় কতৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সেবা বন্ধ হলেও প্রতিমাসে নূন্যতম বিল ১৭৩ টাকা করে যোগ হচ্ছে বিলের বোঝায়।”
সবুজপাড়া গ্রামের গ্রাহক মোজাফ্ফ আলী (৫৫) পেশায় একজন সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী। তার বাসায় ৭৫০৮০ নম্বরে একটি টেফিান রয়েছে। কিন্তু একচেঞ্জের বিকলতায় টেলিফোনটি ব্যবহার করতে পারছেন না এক বছর ধরে। এবিষয়ে তিনি বলেন,“বছরের বারোমাসেই খারাপ থাকে টেলিফোন। অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয়না। অথচ বিল আসছে প্রতিমাসে।”
এদিকে ডোমার উপজেলা শহরের কলেজপাড়ার গৃহিনী মোর্শেদা বেগেম (৪০) বলেন,“আমাদের বাসায় ৭৫২১৬ নম্বরে একটি টেলিফোন আছে। কম খরচে ঢাকায় আমার বাবার বাসার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংযোগটি নিয়েছিলাম। কিন্তু টেলিফোন বিভাগের তার চুরি হওয়ায় আমারটিসহ আশপাশের আরও কয়েকটির সংযোগ প্রায় ১০ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়। অসংখ্যবার অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। অথচ প্রতিমাসে বিলের কাগজ আসা থামেনি। এখন শুনছি মূল সংযোগের ক্রটির কারণে এক বছর ধরে ডোমারের সকল টেলিফোন বিকল হয়ে আছে।” সেবা চালু না হওয়া পর্যন্ত বিল বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা।
এবিষয়ে ডোমার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন,“গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমি এখানে যোগদান করেছি। এর পর থেকে একদিনও ল্যা- ফোনে ফোন দিতে পারি নাই। কিন্তু বিল তো নিয়মিত দিচ্ছি।”
গত বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জটির দৈন্যদশা। অযতœ আর অবহেলার পড়ে আছে আসবাবপত্রসহ সকল যন্ত্রপাতি। কাজ না থাকায় সেখানে বিচরণ নেই কোন সাধারণ গ্রাহকের। দুইজন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও অয়্যারম্যান নজরুল ইসলাম নামে একজনকে উপস্থিত পাওয়া যায়। মোমেজা খাতুন নামের বার্তাবাহক পদের এক কর্মচারী ব্যক্তিগত কাজে অফিসের বাইরে গেছেন বলে জানান তিনি। এসময় নজরুল ইসলাম একচেঞ্জটির অধীনে টেলিফোনের সঠিক হিসাব জানাতে পারেননি। তবে সকল টেলিফোন একসঙ্গে বিকল থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন,“নীলফামারী থেকে ডোমার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজের জন্য মূল সংযোগ তার কেটে যাওয়ায় কারণে অচল হয়ে পড়েছে।” এর সঠিক দিন ক্ষণের হিসাবও জানাতে পারেননি তিনি।
এবিষয়ে নীলফামারীতে কর্মরত বিটিসিএলের জুনিয়র সহকারী ম্যানেজার আমজাদ হোসেন বলেন,“নীলফামারী থেকে ডোমার পর্যন্ত সড়কটির উন্নয়ন কাজ চলছে। এ উন্নয়ন কাজে সড়কের মাটি খোরাখুরির কারণে অফটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লিং কেটে যাওয়ায় একচেঞ্জটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে গত ছয় মাস ধরে সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। এর আগেও একই কারণে ওই সংযোগ অন্তত ১০ বার বিচ্ছিন্ন হলে রংপুর থেকে টীম এসে মেরামত করে দেন। সংযোগটি ডোমার ডিমলা উপজেলায় গেছে ফলে সেখানেও ৯৮টি টেলিফোনও সেবা পাচ্ছে না।”
সেবা বন্ধ থাকলেও বিল চলমান থাকার বিষয়ে তিনি বলেন,“এটি বিটিসিএলের নিয়ম। বিল বন্ধ করার এখতিয়ার আমাদের নেই। গ্রাহকরা সেটি উর্দ্ধতন মহলে কথা বলে দেখতে পারেন।”
নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন,“ওই সড়টির উন্নয়ন কাজের জন্য ২০১১ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। কাজের মেয়াদ রয়েছে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত।”
তিনি বলেন,“জমি অধিগ্রহণ করার পরে টেলিফোন বিভাগ ওই সড়ক দিয়ে ক্যাবল স্থাপন করে। তারা এ বিষয়ে আমাদেরকে অবহিত করেননি। এছাড়া ওই ক্যাবল সড়কের বাউ-ারী দিয়ে অন্তত চার ফিট মাটির নিচে স্থাপনের কথা। এটি হলে ক্যাবল কাটার কথা নয়। কিন্তু তরা সেটি না করে মাটির দুই ফিট নিচ দিয়ে স্থাপন করেছেন। একারণে মাটি খোরাখুরিতে কেটে যেতে পারে।”য়বি আছে ।

শেয়ারকরুন: