সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
গাবতলীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় প্রধান অতিথি রাগেবুল আহসান রিপু গাবতলীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মোকামতলায় এলপিজি অটো গ্যাস ষ্টেশনের উদ্বোধন কাহালুর পাইকড় ইউনিয়নে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক গণশুনানী অনুষ্ঠিত ডোমারে সড়ক দূঘর্টনায় যুবক নিহত গাবতলীতে শিক্ষক সুজাকে লাঞ্ছিত করায় সুজনের নিন্দা গাবতলীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মাগফিরাত ও জীবিতদের কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল গাবতলীর নেপালতলী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’র কমিটি অনুমোদন বগুড়া সদরের নিশিন্দারা ইউনিয়নের দশটিকায় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সোনাতলা-গাবতলী সড়কে  ট্রাকের চাপায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হয়েছে

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ির রেল যোগাযোগ শুরু

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ির রেল যোগাযোগ শুরু

আবু ফাত্তাহ্ কামাল (পাখি), ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ ৫৫ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ির রেল যোগাযোগ শুরু হলো বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে। ভিটিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার পর বেলা ১২টা ৪৬ মিনিটে চিলাহাটি স্টেশন থেকে ৩২টি পণ্যবাহি ওয়াগনের বহর নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। এসময় রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন চিলাহাটি স্টেশনে বাশি বাজিয়ে ও সবুজ পতাকার সংকেত দিয়ে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করারন।
দুপুর দেড়টার দিকে রেল বহরটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পৌঁছে। সেখানে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিজিবি-বিএসএফ) মিষ্টি মিনিময়সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা সোয়া দুইটার দিকে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে রেল বহরটি।
রেলপথে দুই বাংলার সংযোগ স্থাপনের ওই মান্দ্রেক্ষণ ঘিরে চিলাহাটি রেল স্টেশনসহ রেলবহরটিকে সাজানো হয় রঙ্গীন সাজে। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয় এক হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতার প্যা-েল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভিটিও কনফারেন্সে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বড়পর্দায় দেখানো হয় প্যা-েলে। ওই অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ছিলেন রেলাপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দীন সরকার, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. সামসুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহদাত আলী, জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মামুনুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লিং স্থাপনের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমা-ের সাধারণ সম্পাদক (সমাজকল্যাণ) সরকার ফারহানা আক্তার সুমি প্রমুখ।
ব্রিটিশ আমল থেকে অবিভক্ত ভারতে যোগাযোগের প্রধানতম রেলপথ ছিল চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুট। এই পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একাধিক যাত্রিবাহি ও পণ্যবাহি ট্রেন। ওই রেল যোগাযোগকে কেন্দ্র করে চিলাহাটিতে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখরিত চিলাহাটিতে গড়ে ওঠেছিল মার্চেন্ট সমিতি। সেই মার্চেন্ট সমিতর হাত ধরে এলাকায় হয়েছিল বিভিন্ন উন্নয়ন। তারই নিদর্শণ চিলাহাটি মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর পথটি বন্ধ করে দেওয়া হলে স্থবির হয়ে পড়ে নীলফামারীসহ আশপাশ জেলার ব্যবসা বানিজ্য। সে থেকে ব্যবসায়ীসহ এলাকার মানুষের দাবি ছিল পুণরায় রেলপথ চালুর। এমন দাবিতে জেলায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এরই প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর বর্তমান সরকারের উদ্যোগে পথটি পুণরায় চালু হলো।
ওই সংযোগ স্থাপনে নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্ত পর্য়ন্ত বাংলাদেশ অংশের ৬ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পে রেল লাইন স্থাপন ছাড়াও বসানো হয়েছে চার কিলোমিটার লুপ লাইন, আটটি লেভেল ক্রসিং ও নয়টি ব্রীজসহ অন্যান্য অবকাঠামো। চিলাহাটি রেল স্টেশনকেও আধুনিক সাজে সাজানোর পরিকল্পণা নিয়েছে সরকার। বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে।
রেলওয়ে সূত্রমতে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন বহু কাঙ্খিত এই রুটের। উদ্বোধন ঘোষণার পর চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে পণ্যবাহি একটি ট্রেন ছেড়ে যায় ভারতের হলদিবাড়ির উদ্দেশ্যে। ওই রেল বহরে ছিল ভারতীয় ৩২টি খালি ওয়াগন। আর রেলবহরটিকে টেনে নিয়ে যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ইঞ্জিন। এসব ওয়াগান হলদিবাড়ি রেলস্টেশনে রেখে পুণরায় সীমান্ত অতিক্রম করে দেশে ফিরে আসবে ইঞ্জিনটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরল ইসলাম সুজন বলেন, ‘এ পথে আপাতত দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহি ট্রেন চলাচল করবে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে পথটি দিয়ে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রিবাহি ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লিংক স্থাপনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রহীম বলেন,‘ ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর এ পথটি বন্ধ হয়। বর্তমান সরকার ২০১৫ সালে বন্ধ থাকা রেল লিংক পুণরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। সে লক্ষ্যে ২০১৮ সালে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লিংকটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন বর্তমান রেলপথমন্ত্রী এবং ভারতীয় হাইকমিশনার। ইতিমধ্যে মেইন রেললাইনসহ আনুসঙ্গিক কাজগুলো আমরা সম্পন্ন করেছি। ভারতও তাদের অংশের কাজ শেষ করেছে। উদ্ধোধনের পর এ পথে বাংলাদেশ থেকে ভারত, নেপাল, ভুটান পর্যন্ত যাত্রিবাহি এবং পণ্যবাহি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। ঢাকা থেকে ভারতের দার্জিলিং যাওয়ার জন্য এটি একটি বেস্ট রুটে পরিণত হবে। সে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ মার্চ থেকে এ পথে যাত্রিবাহি ট্রেন পরিচালনা করার পরিকল্পণা নিয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘পণ্যবাহি ট্রেন চলাচলের মধ্যদিয়ে ৫৫ বছর পর দুই দেশেরে রেল যোগাযোগের শুভ সূচনা হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ এই পথে যাত্রিবাহি ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন হবে। যাত্রিবাহি ওই ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাবে। পণ্যবাহিবাহি ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটবে। এ পথে আমাদের সেভেন সিস্টারে পণ্য আমদানী রপ্তানী করতে পারবো আমরা ।
উদ্বোধনী ট্রেনটি ভারতে নিয়ে গেলেন যারা
রেল বহরে ছিলেন চালক সহিদুল ইসলাম। তিন সহকারী চালক সাইফুল ইসলাম, কমল সরকার ও শাহজাহান আলীকে নিয়ে রেল ইঞ্জিন পরিচালনা করেন। তাকে নির্দেশনা দেন পরিচালক (গার্ড) আফজাল হোসেন ও সহিদুল ইসলাম।

৫৫ বছরের প্রতিক্ষীত রেলযোগাযোগর উদ্বোধন দেখতে উৎসুক জনতার ভীর
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিলাহাটি স্টেশন এলাকার অনুষ্টানস্থলসহ আশপাশ এলাকায় জমায়েত হতে থাকে উৎসুক জনতা। অনেকে এসেছেন দূর দূরন্ত থেকে। তাদের সকলের আকাঙ্খা দীর্ঘ প্রতিক্ষিত রেল যোগাযোগের মাহেন্দ্রক্ষণ দেখার। অনুষ্ঠানস্থল ছাড়াও সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার জুড়ে রেলপথের দুই ধারে দাঁড়িয়ে মাহেন্দ্রক্ষণটি উপভোগ করলেন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। তাদের একজন ডোমার উপজেলার পূর্ব ভোগডাবুড়ি গ্রামের পিয়ারুল ইসলাম (৬৯)। এসময় তিনি বলেন,‘ছোটকালে এপথে ট্রেন চলাচল করতে দেখেছিলাম। সে সময়ে ট্রেনে করে অনেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেছেন। ৫৫ বছর পর পুণরায় সেটি চালু হওয়ায় দৃশ্যটি উপভোগ করতে এসেছি।’
একই উপজেলার গোসাইগঞ্জ গ্রামের আতিয়ার রহমান (৭০) এসেছেন তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে রেল পথের ধারে। ভারতে রেলবহর যাওয়ার দৃশ্যটি উপভোগ করলেন মনোযোগ সহকারে। এসময় তিনি বলেন,‘আগে ট্রেন চালু ছিল, ভারতে আমার মামার বাড়িতেও যাতায়াত ছিল। বন্ধ হলে আর যাওয়া হয়নি। এখন ট্রেন চালু হলো, আবারো হয়তো বেড়াতে যাওয়া হবে।’ এসময় যাত্রিবাহি ট্রেন চলাচলের দাবি জানান তিনি।

শেয়ারকরুন: