রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
বিএনপির দুস্থ নেতাকর্মী, এতিমখানা ও নব মুসলিমকে মাংস প্রদান বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনা করে গাবতলীর উজগ্রামে দোয়া মাহফিল ১১০টি পরিবারের মুখে হাসি ফুটালেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মওদুদ আহম্মেদ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র সাবেক মহাসচিব সাজ্জাদুল কবির মারা গেছেন নেতৃবৃন্দ’র শোক গাবতলীর মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র জেলা সদস্য বাবু’র পিতার মৃত্যুতে নেতৃবৃন্দ’র শোক সোনাতলায় দিনদিন বেরেই চলেছে চোরের উপদ্রব-কৌশলে আবারো ইজিবাইক চুড়ি নন্দীগ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন এম পি মোশারফ হোসেন কালাই ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণ করলেন ইউ পি চেয়ারম্যান হান্নান

মানব সেবার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন সোনাতলার এক ব্যক্তি ৪০ বছর ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে

মানব সেবার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন সোনাতলার এক ব্যক্তি ৪০ বছর ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে

বদিউদ-জ্জামান মুকুল, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলার এক ব্যক্তি গত ৪০ বছর ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ৫ শতাধিক বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নে দিগদাইড় গ্রামে মৃত মোবারক আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম। ৮ম শ্রেণী পাস জাহিদুল গ্রামের মসজিদে মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। তিন সন্তানের জনক সে। বড় ছেলে বায়জিদ বোস্তামি সরকারী আকবর আলী কলেজে গণিত বিভাগে বিএসসি অনার্স বিষয়ে অধ্যয়নরত। মেঝো ছেলে মোঃ ইস্রাফিল ইসলাম বগুড়ার সরকারী মোস্তাফাবিয়া মাদ্রাসা থেকে এ বছর আলিম পরীক্ষার্থী। ছোট মেয়ে তাবাসসুম আক্তার সোনাতলার কর্পূর উচ্চ বিদ্যালয় ১০ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
সে এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে স্বেচ্ছাশ্রমে একের পর এক বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ শুরু করেন গত ৪০ বছর যাবত। নদী-পাড়াপাড়ে মানুষের দূর্ভোগের কথা শুনলেই ছুটে যান সেখানে। সেখানে গিয়ে সেই এলাকার তরুন, যুবক সহ সকল বয়সীদের সাথে নিয়ে বাঁশ ও কাঠের সেতু বানিয়ে ফেলেন তিনি। আবার কোন কোন এলাকার মানুষ নিজেরাই ফোনে যোগাযোগ করে জাহিদুলের সঙ্গে। নিজের ব্যবহৃত একটি পুরানো বাই সাইকেল নিয়ে হাজির হন তিনি। দিনভর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সাঁকো তৈরি করার পর রাতের বেলা মসজিদের মাইকে ওয়াজ করেন তিনি। ওয়াজ শুনে এলাকার যুবকরা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরদিন তার সাথে স্বেচ্ছাশ্রমে আবারও যোগ দিয়ে সাঁকো তৈরীর কাজ সমাপ্ত করেন। এভাবেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
জাহিদুল ১২ বছর বয়স থেকে সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। জাহিদুল ইতিমধ্যেই বগুড়া, গাইবান্ধা, নওগাঁ ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ শতাধিক বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। জাহিদুলের বয়স বাড়লেও কাজের গতি এখন থেমে নেই।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ৪০ বছরে ৪৫০ থেকে ৫০০টি বাঁশের সাঁকো তিনি তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে কিছু কিছু এলাকার তার নিজ হাতে তৈরি বাঁশের সাঁকো এখন পাকা ব্রীজে পরিনত হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আলী তৈয়ব শামীম জানান, জাহিদুল ইসলাম তার নিজ এলাকা সহ আশ পাশের ৪টি জেলায় অসংখ্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন।
এ ব্যাপারে সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. মিনহাদুজ্জামান লীটন জানান, জাহিদুল ইসলাম এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

শেয়ারকরুন: