সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
গাবতলীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় প্রধান অতিথি রাগেবুল আহসান রিপু গাবতলীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মোকামতলায় এলপিজি অটো গ্যাস ষ্টেশনের উদ্বোধন কাহালুর পাইকড় ইউনিয়নে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক গণশুনানী অনুষ্ঠিত ডোমারে সড়ক দূঘর্টনায় যুবক নিহত গাবতলীতে শিক্ষক সুজাকে লাঞ্ছিত করায় সুজনের নিন্দা গাবতলীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মাগফিরাত ও জীবিতদের কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল গাবতলীর নেপালতলী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’র কমিটি অনুমোদন বগুড়া সদরের নিশিন্দারা ইউনিয়নের দশটিকায় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সোনাতলা-গাবতলী সড়কে  ট্রাকের চাপায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হয়েছে

শেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আবু রায়হান রানা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গাড়ীদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দবির উদ্দীনের বিরুদ্ধে। একই ইউনিয়নে কর্মরত গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে এই চাকরি দেওয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা আত্মসাত করেন তিনি। এছাড়া চেয়াম্যানের নির্দেশে জন্মসনদ তৈরী ও জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কমানোর জন্য উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান ও সরকারি দপ্তর ম্যানেজ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারি সেকেন্দার আলীকেও টাকা দিয়েছেন ওই নারী। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধু নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপন করা হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানসহ ওই চক্রটির প্রতারণার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন। তাই ঘটনাটি জানিয়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ওই নারী রবিবার (২৫জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেইসঙ্গে শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ন্যায় বিচার প্রার্থনাও করেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের চন্ডিজান গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম। একই ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ পদে চাকরি করেন। সেই সুবাদে চেয়ারম্যান দবির উদ্দীন তাকে নানা প্রলোভন দেখান। বিশেষ করে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে পরিষদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে চাকরি পেতে প্রয়োজন মাফিক খরচের টাকা সংগ্রহ করতে বলা হয় তাকে । এরইমধ্যে গাড়ীদহ ইউনিয়নে আয়া পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকজন চাকরি প্রার্থীর মধ্যে মরিয়ম বেগমকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরপর তাকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন ওই চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২০১৯ সালের জুনে প্রথমে আয়া পদে ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে গাড়ীদহ ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ^াস দেন চেয়ারম্যান দবির উদ্দীন। এজন্য তিনি নিজে দেড় লাখ টাকা নেন। আর তার নির্দেশে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স কমাতে হবে এজন্য উদ্যোক্তা মিজানুর রহমানকে বিশ হাজার টাকা ও সরকারি দপ্তর ম্যানেজ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারি সেকেন্দার আলীকে দশ হাজার টাকা দেন। এরপর দীর্ঘসময় পার হলেও তাকে চাকরি না দিয়ে শুধু তালবাহানা করা হচ্ছে। এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না। সেইসঙ্গে টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত গাড়ীদহ ইউপি চেয়ারম্যান দবির উদ্দীন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিনি কোনো টাকা নেননি। এছাড়া বেশকিছুদিন ধরেই ওই মহিলা এসব অভিযোগ করে আসছেন। কিন্তু কোনো প্রমাণ করতে পারেননি। এদিকে উদ্যোক্তা মিজানুর রহমানের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারি সেকেন্দার আলী এসব অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উঁড়িয়ে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।

শেয়ারকরুন: