সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
গাবতলীতে যুবদল নেতা সোহাগ অসুস্থ্য ॥ টিএমএসএস হাসপাতালে ভর্তি সোহেল সভাপতি, মনিন্দ্র সম্পাদক গাবতলীর সুখানপুকুর ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন বগুড়ায় ২৯৭ তম রোভার স্কাউট লিডার ওরিয়েন্টেশন কোর্স’২১ অনুষ্ঠিত গাবতলীর কাগইলে প্রতিন্ধীদের কল্যাণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গাবতলীর দক্ষিনপাড়া লাংলু তরুণ সংঘ উন্নয়ন ক্লাব উদ্বোধন কাহালুর ডোমরগ্রাম কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নব-গঠিত কেন্দ্রীয় কৃষকদলের নেতৃবৃন্দ ধ্বংসের শেষ ধাপে ঐতিহ্যবাহী তুষভান্ডার জমিদার বাড়ী বগুড়ায় দেড় কেজি গাজা ও চাপাতি সহ গ্রেফতারঃ ১ সোনাতলায় হাইস্কুল মাঠে ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন কামালেরপাড়া একাদশের কাছে বিশুরপাড়া গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা ২-১ গোলে পরাজিত

শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডের টাকা নয় ছয়

শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডের টাকা নয় ছয়

আবু রায়হান রানা, শেরপুর (বগুড়া) থেকেঃ পিইডিপি-৪ এর আতওায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপ ফান্ডের টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট ও আয়করের নামে বিদ্যালয় প্রতি বরাদ্দকৃত টাকা থেকে অতিরিক্ত হারে টাকা কর্তন, প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না করা, উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে কাজ করা সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন সাধারণ শিক্ষকেরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুফমেন্ট প্লান) সর্বমোট ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২শ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ১০৭ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা করে, ৫শ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ২৯বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা করে এবং ৫শর উপরে শিক্ষার্থী থাকায় ১টি বিদ্যালয়কে ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে সচেতনতামুলক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমুলক কাজ জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবার নিয়ম। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বগুড়ার শেরপুরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই স্লিপ গাইডলাইন অনুসরন করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ হয়নি। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের এসব আনুষাঙ্গিক খরচ থেকে সাড়ে ৭শতাংশ ভ্যাট ও ২শতাংশ আয়কর (আইটি) কর্তন করার নিয়ম থাকলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট আইটির কথা বলে ১৮ শতাংশ টাকা কর্তন করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলো প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে সাড়ে ৮শতাংশ টাকা বঞ্চিত হয়েছেন। এতে করে সাধারণ শিক্ষকেরা ক্ষুদ্ধ হলেও চাকুরীর ভয়ে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্লিপ ওরিয়েন্টশন সভা, মা সমাবেশসহ প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ সম্পন্ন না হলেও কাগজে কলমে কাজ দেখিয়ে স্লিপের টাকা উত্তোলন ও ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের এমএসসি, পিটিএ কমিটির সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পরিকল্পনা ছাড়াই কাগজে কলমে কাজ দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকা লোপাট হচ্ছে।
এছাড়া বাধ্যতামুলকভাবে স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যালয়ের পথ নিদের্শক (ইন্ডিকেটর) বাবদ ২ হাজার টাকা ও বই রাখার আলমিরা বাবদ ৭ হাজার টাকা কেটে নিয়েছেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বলে অভিযোগ উঠেছে।
শেরপুর উপজেলার খানপুর নলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমির হোসেন জানান, ভ্যাট বাদে গত বছর স্লিপের টাকা পেয়েছিলাম ৪৫ হাজার এবার পাওয়া গেছে ৪১ হাজার টাকা। অফিস থেকে ১৮ শতাংশ ভ্যাট আয়কর কেটে নিয়েছে।
নতুন জাতীয়করণকৃত দশশিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুস সামাদ জানান, টাকা ব্যাংকের একাউন্টে জমা হয়েছে। এখনো কাজ শুরু করিনি। তবে এবার বেশি টাকা কেটে নিয়েছে।
গাড়ীদহ ইউনিয়নের কালসিমাটি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রকি জানান, স্লিপের যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তার মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কিছু জিনিস দিয়েছে। এজন্য অফিসে টাকা দিতে হয়েছে।
উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বিশ্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম জানান, এ বছর অতিরিক্ত হারে ভ্যাট আইটি কেটে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি জুম মিটিংয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেছি। তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশালপুর ইউনিয়নের জামাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম লুৎফর রহমান জানান, স্লিপের টাকা দিয়ে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের পথ নিদের্শক (ইন্ডিকেটর) এখনো পাওয়া যায়নি। এগুলো শিক্ষা অফিস থেকে একযোগে সব বিদ্যালয়ে দিবে।
শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মতিন জানান, এ বছর অতিরিক্তহারে ভ্যাট আইটি কেটে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু অফিস থেকে বলা হয়েছে ভুল ক্রমে অতিরিক্ত হারে কর্তন করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।
শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি আব্দুল লতিফ জানান, ভুলক্রমে অতিরিক্তহারে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। আগামীতে তা সমন্বয় হতে পারে।
তবে এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান, বিধি মোতাবেক স্লিপফান্ডের ভ্যাট ও আইটি কাটা হয়েছে। তাছাড়া সকল বিদ্যালয় শতভাগ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কোন অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।

শেয়ারকরুন: