রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

নোটিশ
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম.........
শিরোনাম >>>
বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবীতে গাবতলীর চকবোচাই বন্দরে মশাল মিছিল গাবতলী মহিলা কলেজে নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সোনাতলায় সাবেক সেনা সদস্য আমজাদের ইন্তেকাল সোনাতলায় জাহানাবাদ আলিম মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বিএনপির চেয়ারপাস্ন খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনায় কাগইলে দোয়া গাবতলীর মহিষাবানে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত গাবতলীতে বিএনপি নেতা মতি’র রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া গাবতলীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার-১ গাবতলীতে খালেদার সুস্থ্যতা কামনায় পৌর বিএনপির দোয়া গাবতলীর উজগ্রাম ছয়ঘড়িয়াপাড়া সমাজ কল্যাণ ক্লাব উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল

সোনাতলায় জয়িতা অন্বেষণে পাঁচ নারী সাফল্য অর্জনকারী নির্বাচিত

সোনাতলায় জয়িতা অন্বেষণে পাঁচ নারী সাফল্য অর্জনকারী নির্বাচিত

মোশাররফ হোসেন,সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতাঃ বগুড়ার সোনাতলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস/২০ উদ্যাপন উপলক্ষে জয়িতা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচ ক্যাটাগরিতে ৫ নারীকে সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এদের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী মোছাঃ তাসলিমা বেগম। তিনি নগরপাড়া গ্রামের মোঃ ওয়ারেছ-এর স্ত্রী। স্বামী ছিলেন একজন মোটরশ্রমিক। আয় করতেন সামান্য। সংসারে অভাব-অনটন হলেও কখনো হতাশ হননি এই নারী। এমতাবস্থায় সম্প্রতি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে যান। ওই দপ্তরের মাধ্যমে ব্লক বাটিকের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে কাজ ও সেইসাথে গাভী পালন শুরু করেন। এছাড়া স্থানীয় একটি নার্সারীতে চারার প্যাকেট তৈরির কাজ করেন। এসব কর্মকান্ড থেকে তিনি প্রতিমাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করেন। তার দেখে এলাকার অনেক নারী উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তাসলিমা বলেন,আমি আমার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে অধিক উন্নতি করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। শিক্ষা ও চাকরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হলেন গড়ফতেপুর গ্রামের গোলজার রহমানের মেয়ে রিনা খাতুন। তারা চার বোন। বোনদের মধ্যে তিনি বড়। পিতা একজন রাজমিস্ত্রী। দরিদ্র পিতার সংসারে শিক্ষা ক্ষেত্রে বারবার বাধা আসা সত্ত্বেও তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যান। তাকে বাল্য বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাল্য নিয়ে না করে তিনি টিউশনি করে নিজের লেখাপাড়ার পাশাপাশি ছোট বোনদের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন। মাস্টার্স পাস করে সোনাতলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তিনি একজন আত্মপ্রত্যয়ী নারী। সফল জননী হিসেবে সাফল্য অর্জনকারী নারী মোছাঃ রোজিনা বেগম। তিনি গড়ফতেপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ আকন্দের স্ত্রী। লেখাপড়া করেছেন নবম শ্রেণি পর্যন্ত। স্বামী স্থানীয় সরকারি নাজির আখতার কলেজের সহকারি গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি করতেন। তিন সন্তানের জননী এই নারী। তার প্রথম সন্তান একেএম আজাদুর রহমান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাস্টার্স পাস করার পর বিসিএস পরীক্ষা দেন। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি বর্তমানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদে কর্মরত আছেন। দ্বিতীয় সন্তান মোছাঃ লতিফা আকতার বানু ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর বেসরকারি চাকরি করেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে অবসর জীবন যাপন করছেন। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী তিনি হলেন মোছাঃ গোলাপী বেগম। ১৪ বছর বয়সে হাইস্কুলে অধ্যায়ন করা অবস্থায় তার বিয়ে হয় সমজাতাইড় গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ছেলে রাজু মিয়ার সাথে। তাদের যখন দুটি সন্তান হয়,তখন একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাভী পালন করেন। পরবর্তীতে গাভী বিক্রি করে জমি এগ্রিমেন্ট নেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি হাতের কাজ করে অর্থ উপার্জন করেন। এতে সংসারের উন্নতি হতে থাকে। এমতাবস্থায় ২০০৩ সালে এসএসসি ও ২০০৫ সালে এইচএসসি পাস করে ব্র্যাকে তিন বছর স্বাস্থ্যকর্মি হিসেবে কাজ করেন। তিনি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পারিবারিক সহিংসতা,বাল্য বিয়ে,যৌতুক ও যৌন হয়রানী প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে তোলেন। ২০১৯ সালে যুবনারী উন্নয়ন নামে একটি সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন করেন। সেখানে অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী তিনি হলেন জোড়গাছা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের-এর মেয়ে মোছাঃ কল্পনা খাতুন। বিয়ের পর তার একটি ছেলে জন্ম হয়। তিন বছর বয়সে ছেলেটি মারা যায়। পরবর্তীতে তার গর্ভে একটি সন্তান আসে। তিন মাস বয়সে গর্ভে সন্তানটি মারা যায়। এরপর কল্পনার ওপর শুরু হয় নানামুখি নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরবর্তীতে তিনি বাবার বাড়ি চলে আসেন। সেখানে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের আস্থা প্রকল্পের কেস ওয়ার্কারের সাথে যোগাযোগ করে আদালতে নারী সহায়তা কেন্দ্রের লিগ্যাল সাপোর্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে দেনমোহরানা বাবদ একলাখ চল্লিশহাজার টাকা বুঝে পেয়ে খোলা তালাক দেন। বর্তমানে তিনি একটি কেজি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনি করে নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন। গত ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাফল্য অর্জনকারী পাঁচ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাবেরী জালাল ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা আকতার বানু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারকরুন: